৪৫০% অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

ম্যারিকো বাংলাদেশের নিট মুনাফা বেড়েছে ২৮%

বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা হয়েছে ৩১৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকা।

বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) নিট মুনাফা হয়েছে ৩১৯ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে নিট মুনাফা বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া কোম্পানিটির পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গতকাল কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর। চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৮৪১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৭২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০১ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৯ টাকা ২৯ পয়সা। এদিকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৬ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩৭ টাকা ১১ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪১ টাকা ৯৪ পয়সায়।

এর আগে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ হাজার শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ নিয়ে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ১ হাজার ৪৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করল।

৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যারিকো কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪৬ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬০ টাকা ৬৪ পয়সায়।

ম্যারিকো বাংলাদেশ দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৯ সালে। তালিকাভুক্তির পর ২০০৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপর ২০১০ হিসাব বছরে ২০ শতাংশ, ২০১১ হিসাব বছরে ২৫, ২০১২ হিসাব বছরে ১০০ ও ২০১৩ হিসাব বছরে ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৪ হিসাব বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশ ৯০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এরপর প্রতি বছরই উচ্চ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০১৫ হিসাব বছরে ৪২৫ শতাংশ, ২০১৬ হিসাব বছরে ৪৫০, ২০১৭ হিসাব বছরে ৫০০, ২০১৮ হিসাব বছরে ৬০০, ২০১৯ হিসাব বছরে ৬৫০, ২০২০ হিসাব বছরে ৯৫০, ২০২১ হিসাব বছরে ৯০০, ২০২২ হিসাব বছরে ৮০০ ও ২০২৩ হিসাব বছরে ৭৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। গত ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি কোম্পানি ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ৪০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৮৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ১৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও